রাতের আকাশে তারা মিটমিট করে, কিন্তু শুক্র বা বৃহস্পতিকে স্থির উজ্জ্বল দেখায়। পার্থক্যটা কোথায়?
দুটোই তো আকাশের আলোকবিন্দু, একই বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়েই আলো আসছে। তাহলে একটিতে কাঁপুনি দেখা যায় আর অন্যটিতে যায় না কেন?
সবচেয়ে বেশি প্রশ্নএইচএসসিবাংলা, ইংরেজি, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত ও হিসাববিজ্ঞান — বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর।
Color
Mode
রাতের আকাশে তারা মিটমিট করে, কিন্তু শুক্র বা বৃহস্পতিকে স্থির উজ্জ্বল দেখায়। পার্থক্যটা কোথায়?
দুটোই তো আকাশের আলোকবিন্দু, একই বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়েই আলো আসছে। তাহলে একটিতে কাঁপুনি দেখা যায় আর অন্যটিতে যায় না কেন?
পার্থক্যটি আকারের — আমাদের চোখে যতটুকু দেখায় সেই আপাত আকারের। তারা এত দূরে যে তা কার্যত একটি বিন্দু। সেই বিন্দু থেকে আসা আলো বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন ঘনত্বের অস্থির স্তর পেরিয়ে আসে, প্রতিটি স্তরে সামান্য বেঁকে যায়, আর অস্থিরতার কারণে বাঁকের পরিমাণ মুহূর্তে মুহূর্তে বদলায়। ফলে আলোটি কাঁপে — সেটাই মিটমিট।
গ্রহ অনেক কাছে, তাই আমাদের চোখে তা বিন্দু নয় — একটি ছোট চাকতি। সেই চাকতিটিকে অসংখ্য বিন্দুর সমষ্টি ভাবা যায়, আর প্রতিটি বিন্দু আলাদা আলাদাভাবে কাঁপে। কাঁপুনিগুলো একে অপরকে গড়ে কাটাকাটি করে দেয়, তাই সামগ্রিক আলো স্থির দেখায়।
একই কারণে দিগন্তের কাছাকাছি তারা বেশি মিটমিট করে — সেখানে আলোকে বায়ুমণ্ডলের অনেক পুরু স্তর পেরোতে হয়। আর মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই বলে সেখান থেকে তারা মিটমিট করে না।
এই কাঁপুনি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বাস্তব সমস্যা, কারণ এতে টেলিস্কোপে তোলা ছবি ঘোলাটে হয়ে যায়। আধুনিক মানমন্দিরগুলো অভিযোজিত আলোকবিদ্যা ব্যবহার করে — আয়নার আকৃতি সেকেন্ডে বহুবার সামান্য বদলে বায়ুমণ্ডলের বিকৃতি পুষিয়ে দেওয়া হয়। মহাকাশে টেলিস্কোপ পাঠানোর একটি বড় কারণও এটিই।